মিশু আমার পেশাবের রাস্তা খুব যন্ত্রণা করছে,,,, আজকে আমি কিছু পড়তে পারবো না।
আজ নতুন বাহানা, দেখো সানজিদা রোজ রোজ তোমার এমন বাহানায় আমি বিরক্ত, দুই ঘন্টা জার্নি, গরমের মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে এসে বসলাম কি বসলাম না তার আগেই তোমার বাহানা শুরু,চুপচাপ বই খোলো। এ মাসের বিশ তারিখ থেকেই পরীক্ষা সেটা খেলায় আছে নাকি গুলে খেয়ে বসে আছো।
মিশু আমি বাহানা দিচ্ছিনা, সত্যি বলছি আমার পেটেরর নিচে খ খু খবু ব্যথা করছে। বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লো আমার সদ্য ৩য় শ্রেণিতে পড়া ছাত্রীটা। এই মাসের শেষেই আট বছরে পা রাখবে, কিন্তু সে তার বয়স এবং শ্রেণি থেকেও বেশ পাকা সাথে ফাকিবাজ। পড়াতে আসলে রোজ রোজ তার বাহানা, মিশু আজ এটা হয়েছে, মিশু আজ ঐটা হয়েছে, দেরঘন্টার মধ্যে পয়তাল্লিশ মিনিট তার এসব কাহিনি শুনতে হয় আমাকে।
তার উপর এই মেয়ে কখনও আমাকে মিস বা আপা বা মেম বলে ডাকে না তার আগের সব মিসকে সে মিশু বলে ডাকতো তাই আমাকেও মিশু বলেই ডাকে। ডাক নিয়ে এত মাথাব্যথা আমার নেই, যত মাথাব্যথা এ ফাঁকিবাজ মেয়েকে নিয়ে, একে সে নানান বাহানায় পড়ায় ফাকি দিতে চায়, অপর দিকে তার মা বেতন দেওয়ার সময় আমাকে বোনাস হিসাবে এত এত কথা শুনিয়ে যায়।
আমি পুষ্প, এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত নিয়ে পড়াশোনা করছি,আমি যখন প্রথম বর্ষে তখন বাবা মারা যান, বাবার স্বপ্ন ছিলো আমাকে পিএইচডি করাবেন,বংশের একমাত্র তার মেয়েই হবে পিএইচডিআলি যার কথা বাবা গর্ভ করে বলে বেড়াবেন,কিন্তু তিনি তা আর বলে যেতে পারলেন না,বাবা থাকা কালিন সব ঠিক ছিল,কিন্তু তিনি মারা যাবার পর বুঝতে পারি দুনিয়া কি, পরিবার কি।
বাবার মৃত্যুর দু মাসের মাথায় আমার বড় তিন ভাই মা ও ভাবিরা মিলে আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন, আজ একে তো কাল ওকে এমন করে বেশ কয়েকটি ছেলে ও ছেলের পরিবারের সামনে আমাকে বসানো হয়,আমি হাজারো বাধা দিলে তারা আমাকে বোজার মত মনে করে যত দ্রুত সম্ভব বিদেয় করতে চান।
কিন্তু যখনই আমি ছেলে পক্ষকে জানাতাম আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা,বিয়ের পরও আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাবার কথা, তখন তারা বলতো"বাপু এত পড়া শোনা দিয়ে কি বা আর করবে,সেই তো রান্না ঘরে বাসন আর চুলোই সামলাবে,শুধু শুধু টাকার নষ্ট, বাপ যখন নেই আর ঐ পড়ার স্বপ্নও বাদ দিয়ে দাও"।
তখন থেকেই আমি সিদ্ধান্তঃ নিলাম যত কষ্ট হোক আগে বাবার স্বপ্ন পূর্ণ করবো তারপর বিয়ে, কপালে থাকলে হবে নয়ত না। এর জন্য পরিবারের প্রতিটা মানুষের সাথে আমার কম বিরোধ লাগেনি,কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়ভাবে টিকে থাকায় শত চিল্লিয়েও আর কাজ হয়নি।
কিন্তু তারা সাফ জানিয়ে দেয় আমার কোন খরচ তারা বহন করবে না, তখন থেকে আমার আরেক লড়াই শুরু। শুরু করলাম ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর কাজ।
এক এক করে তিন জন জুটে গেল,একটু কষ্ট হলেও সবটা ম্যানেজ করে চলা হয়ে যায়। তিন জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন হল সানজিদা, বেশ দুষ্ট এবং চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। এ পর্যন্ত বহু টিচার সে বদল করিয়েছে, কিন্তু আমাকে কোন মতে হাত করতে পারেনা বিধায় রোজ রোজ পড়া থেকে বাচার জন্য নানান বাহানা তৈরি করে।
আজও সে এক বাহানা বাধিয়েছে বলে আমার ধারণা হয় প্রথমে,কিন্তু যখন দেখলাম মেয়ে কাঁদছে তখন বুঝলাম আজ সে সত্যি বলছে। আমি কিছুখন চুপ রইলাম তারপর তাকে আদর করে বললাম,সানজু কি হয়েছে তোমার, এমন করে কাদছো কেন মিশুকে বলো। আমার কথায় মেয়ে আরও কেদে উঠলো,এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,,,মি মি মিশু আম আমার খুব ব্যথা করছে। মেয়েটার কান্নায় আমি অবাক না হয়ে পাড়ছিনা, তারউপর এভাবে জড়িয়ে ধরে কান্না করার মানে কি তাও বুঝলাম না।
কিন্তু এরপর যা চোখে পড়লো এবং সানজিদাকে জিজ্ঞেস করলাম তাতে আমার মাথা ঘুরাবার উপক্রম।
সানজিদা আমাকে জড়িয়ে ধরলে আমিও তাকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, হুট করে আমার চোখ পড়লো সে যেখানে বসে ছিলো সে চেয়ারটায়, চোখ পড়তেই দেখলাম চেয়ারে রক্তের দাগ, এত রক্ত,তারপর তাকে ছাড়িয়ে আমি ঘুড়িয়ে তার পড়া গোল জামাটা খেয়াল করলাম,পুরো জামা রক্তে ভরে উঠেছে। গা আমার কাটা দিয়ে উঠলো, সানজিদা সবে মাত্র সাত বছরের মেয়ে, তার তো এখন মেয়েলি সমস্যা শুরু হবার কথা নয়, তবে কি জন্য হচ্ছে এমন। তার কান্নার প্রতিটা শব্দ এবার আমার হৃদয়ে গিয়ে লাগছে,শক্ত করে মেয়েটাকে বুকে চেপে ধরলাম, তারপর আপু আপু বলে ওর আম্মিকে ডাকা শুরু করলাম।
সানজিদার আম্মু এসে প্রথমে খেয়াল না করলেও পরে মেয়ের গায়ের জামা রক্তে ভিজা দেখে আঁতকে উঠলেন, একমাত্র মেয়ে হওয়াই সবারই বেশ আদরের সানজিদা। এমন কোন সুখ নেই যা তার বাবা মা তে এনে দিতে পারে না। আর মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারলেন না "সানজু মারে, একি হলো তোর সোনা" বলেই মেয়েকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন। আর সানজিদা বলেই যাচ্ছে "আমার পেশাবের রাস্তায় খুব ব্যথা হচ্ছে মা, খুব ব্যথা হচ্ছে মিশু,আমি বাহানা দিচ্ছি না" বলতে বলতেই সে জ্ঞান হারায়।
বাসায় আমি আর আপু ছাড়া আর কেউই ছিলো না, আমি আপুকে শান্ত হতে বলে সানজিদাকে নিয়ে দ্রুত হসপিটালে দৌড়াতে শুরু করলাম,যে হারে রক্ত যাচ্ছে যেকোনো সময় কিছু একটা হয়ে যাবার সম্ভাবনা। আপুও আমার পিছু পিছু ছুটলেন।নিচে এসেই ড্রাইভারকে বলে দুজন দ্রুত হসপিটাল চল এলাম।
হসপিটাল আসার পর, জরুরি বিভাগে ওকে ভর্তি করিয়ে সব ফর্ম ফিলাপ করে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ডক্টর এসে যেসব বললেন তাতে আমার ও আপুর শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেলো। ডক্টর লায়লা বললেন, তিন বেগ ওপজেটিভ রক্ত লাগবে,আসতে আসতে যেমন রক্ত ক্ষরণ হয়েছে,এর আগেও রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। আর কেসটা শিশু নির্যাতনের তাই দ্রুতই পুলিশে খবর দেওয়ারও কথা বললেন।
ওনার কথা শুনার পর আমরা দুজনই কিছু বুঝলাম না, পড়ে ডক্টর আমাদের বললেন মেয়েটির রেপ করা হয়েছে, একবার নয় বেশ কয়েকবার, যৌনাঙ্গ ও তার আশপাশের অংশ ক্ষত-বিক্ষত।মেয়েটির সাথে হয়ত এটা আরও তিম ঘন্টা আগে ঘটেছে, শারীরিক কাঠামো শক্ত হওয়ায় এবং সহ্য করার ক্ষমতা থাকায় মেয়েটি এতক্ষণ সার্ভাইব করতে পেরেছে, নয়ত অনেক আগেই কিছু না কিছু হয়ে যেত।
ডক্টরের কথা শুনে আপু সাথে সাথে "সানজিদারে" বলেই কান্না করতে করতে জ্ঞান হারালেন। আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছিনা, নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল,এমন ফুটফুটে মেয়ের সাথে এমন একটি অমানবিক কাজ কি করে মানা যায়। নিজেও যেন সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছি নিজের, শক্ত করলাম নিজেকে, এ মূহুর্তে স্থির থেকে সব না সামলালে সব আরও ভয়ানক হবে, তাই নার্স ডেকে আপুকে কেভিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। অতিরিক্ত চাপে আপুর পেশার লো হয়ে যায়, যার জন্য তিনি জ্ঞান হারান। তাকে সেলাইন এবং এ পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার জন্য ডক্টরের অনুমতিতে সালাইনের সাথে ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়,নয়ত স্ট্রোক করার সম্ভবনা আছে।
আমি দ্রুত চলে গেলাম রক্ত জমা দিতে, সেখানে গিয়ে সবার প্রথমে আমার রক্ত পরীক্ষা করা হল সাথে রক্তের সম্পূর্ণ মিল পেতে ক্রস মেচিং করা হল। এরপর আমার এক বেগ রক্ত নেওয়া হলে ডক্টর জানিয়ে দে আমার পয়েন্ট অনুযায়ী আর রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়।আমি ডক্টরকে বললাম আপনি এ বেগ দিয়ে দিন আমি এরই মধ্যে বাকি দুব্যগের ব্যবস্থা করছি। ডক্টর আমাকে তাড়াতাড়ি করতে বলে চলে গেলেন রক্ত দানের ওর্ডার ও সিগনেচার দিতে।
আমি এরি মধ্যে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের "বাঁধন" ব্লাড ব্যাংকে কল করলাম, তারা বললেন একটু পরেই আমাকে কল করে জানাবেন,তারপর আমার দু,তিন জন সহপাঠীকে কল করলে তারা বলে তাদের কারোই ও পেজটি না। পড়লাম বিপদে,এদিকে টাকাও শেষের দিকে কিনে রক্ত দিব তারও উপায় নেই।হুট করে মনে পরেগেলো ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ের কথা, একবার বিপদে পড়ায় তিনি সাহায্য করেছিলেন,নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন সমস্যায় পড়লে কল দিতে।সেভ করা নাম্বার থেকে "সিনিয়র ভাই" নামটায় কল লাগালাম, দুই বার রিং হতে ধরলো, আমি উপায় না পেয়ে সমস্তটা তাকে খুলে বললে তিনি হসপিটালের নাম জেনে এখনি আসছি বলে কল কাটলেন।
আমি বসে আছি হসপিটালের বারান্দায়, এ কয়েকঘন্টায় যা হল তাতে আমার মনের সাথে শরীলটাও বেশ ক্লান্ত হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই মস্তিষ্কে একটি শব্দ বেজে উঠলো"রেপ"।
আর শান্ত থাকতে পারলাম না, শরীলের প্রতিটি লোমকূপ রাগে ঘৃণায় রিরি করছে, ঐ পিশাচকে কেটে টুকরো টুরকো করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার তান্তব চলছে মস্তিষ্কে। কি করে পারলো মাত্র সাত বছরের মেয়ের সাথে এমন একটি নরপিশাচের মত কাজ করতে, আর কে বা করলো এমন কাজ।ছাড় দিবোনা আমি, সে যেই হোক না কেন। এর সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা যে করেই হোক আমি দিব। জান যায় তো যাবে, এর শেষ আমি দেখেই ছাড়বো "ইনশাআল্লাহ"।
হুট করে কেউ আমার নাম ধরে ডাকায় আমার ভাবনায় বিঘ্ন ঘটলো,চেয়ে দেখি সিনিয়র বড় ভাই, সাথে আরও বেশ কয়েকজন। তিনি কোন প্রকার কথা না বলেই, আমাকে নিয়ে তিনি সহ আরও চার জন চার ব্যগ রক্ত দিলেন।দুব্যগ বেশি নেওয়া হল জুরুরি প্রয়োজন হলে তখন দেওয়া যাবে।
ভাই সহ সবাই রক্ত দেওয়ার পড় বের হলে,,, আমাকে দেখে সমপূ্রণটা তিনি বিস্তারিত ভাবে জানতে চান।আমি একে একে সব প্রথম থেকে আবার তাকে বলি,আমার মত তারও একি অবস্থা, মুখ দিয়ে বারবার বললেন জানোয়ারের দল সব, এদেরে ******কেটে পুরুষত্বই বিলিন করে দেওয়া উচিত, শালা শু*******বাচ্চা। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,,,তুমি চিন্তা করোনা এর ব্যবস্থা আমি করবো,এক একটাকে জেলের পচা নরদমায় ফেলবো।
কিন্তু আমার পরিকল্পনা ভিন্ন, আর আমার পরিকল্পনা অনুসারে একা আমি এসব পারবো না,ভাইয়ের মত কাউকে যেমন লাগবে তেমনি লাগবে সানজিদার পরিবারের সাহায্য। তাই আমি ভাইকে আপাদত কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অনুরোধ করলাম,তিনি কারণ জানতে চাইলে আমি তাকে একা পরিকল্পনা বলার ইঙ্গিত করায় তার সাথে আসা বাকি সিনিয়রা একটু দূরে সরে গেলেন।
তারপর আমি এক এক করে সবকিছু তাকে বললাম,তিনি আমার পরিকল্পনা শুনে বেশ অবাক হলেন মনে হল,তারপর বললেন তুৃই মেয়ে না অগ্নি অস্ত্র। সব তো জালিয়ে দিবি একাই তুই, ঠিক আছে তবে তাই হোক। তোর পরিকল্পনা অনুসারে সব হবে,তোর যখন প্রয়োজন তখনই ডাকবি ভাইকে, যা যা করা সম্ভব আমি ব্যবস্থা নিবো।
ভালো লাগলো ক্যাম্পাসে এমন একজন অভিভাবক পেয়ে,সিনিয়র ভাই সত্যি একজন মহান ব্যক্তি,যত শুনেছি আজ তার প্রমাণও পাচ্ছি আমি। ভাইয়ের হুট করে কল আসলো,,,তাকে যেতে হবে, তিনি আমার কাছে যাওয়ার অনুমতি নিলেন এবং বললেন কাজ সেরেই আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। তারপর আমার হাতে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললেন এগুলো রাখ,তোর এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।যতটুকু বুঝলাম সব তুই সামলেছিস,এটাও লাগবে হয়। আর হ্যা,তুই বললাম বলে রাগ করিস না, তুই আমার বোনের বয়সী, আজ সে বেচে থাকলো তোর মতই হত। বলেই আর দাড়ালেন না, চোখে কালো রোদ চশমা পড়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। আমি বাবা যাওয়ার পর ভাইদের থেকে আর কখনও এমন ভাবে স্নেহ বা আদর কোনটাই পাইনি, ভুলেই গিয়েছিলাম ভাইদের স্নেহ কেমন হয়।
কিন্তু সিনিয়র আজীম ভাইয়ের এমন আচরণে আবার আমাকে সেই স্নেহ মনে করিয়ে দিলো।চোখে চিক চিক করে উঠলো জলকণায়।চোখ দুটো মুছে আবার নিজেকে শক্ত করলাম, পা বাড়ালাম সানজিদার মায়ের কেভিনে, কেননা আমার পরিকল্পনা অনুসারে আগে তৈরি করতে হবে তাদের পরিবারকে, নয়ত সমাজে এমন নরপিশাচরা খোলাখুলি ভাবে আমাদের ঘরে ঢুকে নিজেদের কামনা মিটিয়ে যাবে আর আমরা বসে বসে এই নির্যাতনের শিকার হতে থাকবো। এমণ শু******বাচ্চাদের শাস্তি হবে নরক যন্ত্রণার মত ভয়াবহ, পুরুষ হয়ে জন্মানোকে অভিশাপে পরিণত করবো আমি পুষ্প, ইনশাআল্লাহ।
#গল্প_ধ-র্ষ-ণ
#অনুগুল্প_০১(দুই কিংবা তিন পর্বে শেষ করা হবে, আশা করছি এই অনুগল্পটিও আপনাদের মন ছুতে পারবে)
#রাজিয়ারগল্পগুচ্ছ
®রাজিয়া সুলতনা মিষ্টি
নেক্সট পার্টগুলো সবার আগে নতুন পেইজে দেওয়া হবে নীল লাখাই চাপ দিয়ে সবাই নতুন পেজ ফলো করুন 👉 Tarikul Islam
আজ নতুন বাহানা, দেখো সানজিদা রোজ রোজ তোমার এমন বাহানায় আমি বিরক্ত, দুই ঘন্টা জার্নি, গরমের মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে এসে বসলাম কি বসলাম না তার আগেই তোমার বাহানা শুরু,চুপচাপ বই খোলো। এ মাসের বিশ তারিখ থেকেই পরীক্ষা সেটা খেলায় আছে নাকি গুলে খেয়ে বসে আছো।
মিশু আমি বাহানা দিচ্ছিনা, সত্যি বলছি আমার পেটেরর নিচে খ খু খবু ব্যথা করছে। বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লো আমার সদ্য ৩য় শ্রেণিতে পড়া ছাত্রীটা। এই মাসের শেষেই আট বছরে পা রাখবে, কিন্তু সে তার বয়স এবং শ্রেণি থেকেও বেশ পাকা সাথে ফাকিবাজ। পড়াতে আসলে রোজ রোজ তার বাহানা, মিশু আজ এটা হয়েছে, মিশু আজ ঐটা হয়েছে, দেরঘন্টার মধ্যে পয়তাল্লিশ মিনিট তার এসব কাহিনি শুনতে হয় আমাকে।
তার উপর এই মেয়ে কখনও আমাকে মিস বা আপা বা মেম বলে ডাকে না তার আগের সব মিসকে সে মিশু বলে ডাকতো তাই আমাকেও মিশু বলেই ডাকে। ডাক নিয়ে এত মাথাব্যথা আমার নেই, যত মাথাব্যথা এ ফাঁকিবাজ মেয়েকে নিয়ে, একে সে নানান বাহানায় পড়ায় ফাকি দিতে চায়, অপর দিকে তার মা বেতন দেওয়ার সময় আমাকে বোনাস হিসাবে এত এত কথা শুনিয়ে যায়।
আমি পুষ্প, এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত নিয়ে পড়াশোনা করছি,আমি যখন প্রথম বর্ষে তখন বাবা মারা যান, বাবার স্বপ্ন ছিলো আমাকে পিএইচডি করাবেন,বংশের একমাত্র তার মেয়েই হবে পিএইচডিআলি যার কথা বাবা গর্ভ করে বলে বেড়াবেন,কিন্তু তিনি তা আর বলে যেতে পারলেন না,বাবা থাকা কালিন সব ঠিক ছিল,কিন্তু তিনি মারা যাবার পর বুঝতে পারি দুনিয়া কি, পরিবার কি।
বাবার মৃত্যুর দু মাসের মাথায় আমার বড় তিন ভাই মা ও ভাবিরা মিলে আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন, আজ একে তো কাল ওকে এমন করে বেশ কয়েকটি ছেলে ও ছেলের পরিবারের সামনে আমাকে বসানো হয়,আমি হাজারো বাধা দিলে তারা আমাকে বোজার মত মনে করে যত দ্রুত সম্ভব বিদেয় করতে চান।
কিন্তু যখনই আমি ছেলে পক্ষকে জানাতাম আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা,বিয়ের পরও আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাবার কথা, তখন তারা বলতো"বাপু এত পড়া শোনা দিয়ে কি বা আর করবে,সেই তো রান্না ঘরে বাসন আর চুলোই সামলাবে,শুধু শুধু টাকার নষ্ট, বাপ যখন নেই আর ঐ পড়ার স্বপ্নও বাদ দিয়ে দাও"।
তখন থেকেই আমি সিদ্ধান্তঃ নিলাম যত কষ্ট হোক আগে বাবার স্বপ্ন পূর্ণ করবো তারপর বিয়ে, কপালে থাকলে হবে নয়ত না। এর জন্য পরিবারের প্রতিটা মানুষের সাথে আমার কম বিরোধ লাগেনি,কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়ভাবে টিকে থাকায় শত চিল্লিয়েও আর কাজ হয়নি।
কিন্তু তারা সাফ জানিয়ে দেয় আমার কোন খরচ তারা বহন করবে না, তখন থেকে আমার আরেক লড়াই শুরু। শুরু করলাম ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর কাজ।
এক এক করে তিন জন জুটে গেল,একটু কষ্ট হলেও সবটা ম্যানেজ করে চলা হয়ে যায়। তিন জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন হল সানজিদা, বেশ দুষ্ট এবং চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। এ পর্যন্ত বহু টিচার সে বদল করিয়েছে, কিন্তু আমাকে কোন মতে হাত করতে পারেনা বিধায় রোজ রোজ পড়া থেকে বাচার জন্য নানান বাহানা তৈরি করে।
আজও সে এক বাহানা বাধিয়েছে বলে আমার ধারণা হয় প্রথমে,কিন্তু যখন দেখলাম মেয়ে কাঁদছে তখন বুঝলাম আজ সে সত্যি বলছে। আমি কিছুখন চুপ রইলাম তারপর তাকে আদর করে বললাম,সানজু কি হয়েছে তোমার, এমন করে কাদছো কেন মিশুকে বলো। আমার কথায় মেয়ে আরও কেদে উঠলো,এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,,,মি মি মিশু আম আমার খুব ব্যথা করছে। মেয়েটার কান্নায় আমি অবাক না হয়ে পাড়ছিনা, তারউপর এভাবে জড়িয়ে ধরে কান্না করার মানে কি তাও বুঝলাম না।
কিন্তু এরপর যা চোখে পড়লো এবং সানজিদাকে জিজ্ঞেস করলাম তাতে আমার মাথা ঘুরাবার উপক্রম।
সানজিদা আমাকে জড়িয়ে ধরলে আমিও তাকে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, হুট করে আমার চোখ পড়লো সে যেখানে বসে ছিলো সে চেয়ারটায়, চোখ পড়তেই দেখলাম চেয়ারে রক্তের দাগ, এত রক্ত,তারপর তাকে ছাড়িয়ে আমি ঘুড়িয়ে তার পড়া গোল জামাটা খেয়াল করলাম,পুরো জামা রক্তে ভরে উঠেছে। গা আমার কাটা দিয়ে উঠলো, সানজিদা সবে মাত্র সাত বছরের মেয়ে, তার তো এখন মেয়েলি সমস্যা শুরু হবার কথা নয়, তবে কি জন্য হচ্ছে এমন। তার কান্নার প্রতিটা শব্দ এবার আমার হৃদয়ে গিয়ে লাগছে,শক্ত করে মেয়েটাকে বুকে চেপে ধরলাম, তারপর আপু আপু বলে ওর আম্মিকে ডাকা শুরু করলাম।
সানজিদার আম্মু এসে প্রথমে খেয়াল না করলেও পরে মেয়ের গায়ের জামা রক্তে ভিজা দেখে আঁতকে উঠলেন, একমাত্র মেয়ে হওয়াই সবারই বেশ আদরের সানজিদা। এমন কোন সুখ নেই যা তার বাবা মা তে এনে দিতে পারে না। আর মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারলেন না "সানজু মারে, একি হলো তোর সোনা" বলেই মেয়েকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন। আর সানজিদা বলেই যাচ্ছে "আমার পেশাবের রাস্তায় খুব ব্যথা হচ্ছে মা, খুব ব্যথা হচ্ছে মিশু,আমি বাহানা দিচ্ছি না" বলতে বলতেই সে জ্ঞান হারায়।
বাসায় আমি আর আপু ছাড়া আর কেউই ছিলো না, আমি আপুকে শান্ত হতে বলে সানজিদাকে নিয়ে দ্রুত হসপিটালে দৌড়াতে শুরু করলাম,যে হারে রক্ত যাচ্ছে যেকোনো সময় কিছু একটা হয়ে যাবার সম্ভাবনা। আপুও আমার পিছু পিছু ছুটলেন।নিচে এসেই ড্রাইভারকে বলে দুজন দ্রুত হসপিটাল চল এলাম।
হসপিটাল আসার পর, জরুরি বিভাগে ওকে ভর্তি করিয়ে সব ফর্ম ফিলাপ করে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ডক্টর এসে যেসব বললেন তাতে আমার ও আপুর শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেলো। ডক্টর লায়লা বললেন, তিন বেগ ওপজেটিভ রক্ত লাগবে,আসতে আসতে যেমন রক্ত ক্ষরণ হয়েছে,এর আগেও রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। আর কেসটা শিশু নির্যাতনের তাই দ্রুতই পুলিশে খবর দেওয়ারও কথা বললেন।
ওনার কথা শুনার পর আমরা দুজনই কিছু বুঝলাম না, পড়ে ডক্টর আমাদের বললেন মেয়েটির রেপ করা হয়েছে, একবার নয় বেশ কয়েকবার, যৌনাঙ্গ ও তার আশপাশের অংশ ক্ষত-বিক্ষত।মেয়েটির সাথে হয়ত এটা আরও তিম ঘন্টা আগে ঘটেছে, শারীরিক কাঠামো শক্ত হওয়ায় এবং সহ্য করার ক্ষমতা থাকায় মেয়েটি এতক্ষণ সার্ভাইব করতে পেরেছে, নয়ত অনেক আগেই কিছু না কিছু হয়ে যেত।
ডক্টরের কথা শুনে আপু সাথে সাথে "সানজিদারে" বলেই কান্না করতে করতে জ্ঞান হারালেন। আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছিনা, নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল,এমন ফুটফুটে মেয়ের সাথে এমন একটি অমানবিক কাজ কি করে মানা যায়। নিজেও যেন সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছি নিজের, শক্ত করলাম নিজেকে, এ মূহুর্তে স্থির থেকে সব না সামলালে সব আরও ভয়ানক হবে, তাই নার্স ডেকে আপুকে কেভিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করলাম। অতিরিক্ত চাপে আপুর পেশার লো হয়ে যায়, যার জন্য তিনি জ্ঞান হারান। তাকে সেলাইন এবং এ পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার জন্য ডক্টরের অনুমতিতে সালাইনের সাথে ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়,নয়ত স্ট্রোক করার সম্ভবনা আছে।
আমি দ্রুত চলে গেলাম রক্ত জমা দিতে, সেখানে গিয়ে সবার প্রথমে আমার রক্ত পরীক্ষা করা হল সাথে রক্তের সম্পূর্ণ মিল পেতে ক্রস মেচিং করা হল। এরপর আমার এক বেগ রক্ত নেওয়া হলে ডক্টর জানিয়ে দে আমার পয়েন্ট অনুযায়ী আর রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়।আমি ডক্টরকে বললাম আপনি এ বেগ দিয়ে দিন আমি এরই মধ্যে বাকি দুব্যগের ব্যবস্থা করছি। ডক্টর আমাকে তাড়াতাড়ি করতে বলে চলে গেলেন রক্ত দানের ওর্ডার ও সিগনেচার দিতে।
আমি এরি মধ্যে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের "বাঁধন" ব্লাড ব্যাংকে কল করলাম, তারা বললেন একটু পরেই আমাকে কল করে জানাবেন,তারপর আমার দু,তিন জন সহপাঠীকে কল করলে তারা বলে তাদের কারোই ও পেজটি না। পড়লাম বিপদে,এদিকে টাকাও শেষের দিকে কিনে রক্ত দিব তারও উপায় নেই।হুট করে মনে পরেগেলো ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ের কথা, একবার বিপদে পড়ায় তিনি সাহায্য করেছিলেন,নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন সমস্যায় পড়লে কল দিতে।সেভ করা নাম্বার থেকে "সিনিয়র ভাই" নামটায় কল লাগালাম, দুই বার রিং হতে ধরলো, আমি উপায় না পেয়ে সমস্তটা তাকে খুলে বললে তিনি হসপিটালের নাম জেনে এখনি আসছি বলে কল কাটলেন।
আমি বসে আছি হসপিটালের বারান্দায়, এ কয়েকঘন্টায় যা হল তাতে আমার মনের সাথে শরীলটাও বেশ ক্লান্ত হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই মস্তিষ্কে একটি শব্দ বেজে উঠলো"রেপ"।
আর শান্ত থাকতে পারলাম না, শরীলের প্রতিটি লোমকূপ রাগে ঘৃণায় রিরি করছে, ঐ পিশাচকে কেটে টুকরো টুরকো করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার তান্তব চলছে মস্তিষ্কে। কি করে পারলো মাত্র সাত বছরের মেয়ের সাথে এমন একটি নরপিশাচের মত কাজ করতে, আর কে বা করলো এমন কাজ।ছাড় দিবোনা আমি, সে যেই হোক না কেন। এর সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা যে করেই হোক আমি দিব। জান যায় তো যাবে, এর শেষ আমি দেখেই ছাড়বো "ইনশাআল্লাহ"।
হুট করে কেউ আমার নাম ধরে ডাকায় আমার ভাবনায় বিঘ্ন ঘটলো,চেয়ে দেখি সিনিয়র বড় ভাই, সাথে আরও বেশ কয়েকজন। তিনি কোন প্রকার কথা না বলেই, আমাকে নিয়ে তিনি সহ আরও চার জন চার ব্যগ রক্ত দিলেন।দুব্যগ বেশি নেওয়া হল জুরুরি প্রয়োজন হলে তখন দেওয়া যাবে।
ভাই সহ সবাই রক্ত দেওয়ার পড় বের হলে,,, আমাকে দেখে সমপূ্রণটা তিনি বিস্তারিত ভাবে জানতে চান।আমি একে একে সব প্রথম থেকে আবার তাকে বলি,আমার মত তারও একি অবস্থা, মুখ দিয়ে বারবার বললেন জানোয়ারের দল সব, এদেরে ******কেটে পুরুষত্বই বিলিন করে দেওয়া উচিত, শালা শু*******বাচ্চা। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠেন,,,তুমি চিন্তা করোনা এর ব্যবস্থা আমি করবো,এক একটাকে জেলের পচা নরদমায় ফেলবো।
কিন্তু আমার পরিকল্পনা ভিন্ন, আর আমার পরিকল্পনা অনুসারে একা আমি এসব পারবো না,ভাইয়ের মত কাউকে যেমন লাগবে তেমনি লাগবে সানজিদার পরিবারের সাহায্য। তাই আমি ভাইকে আপাদত কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অনুরোধ করলাম,তিনি কারণ জানতে চাইলে আমি তাকে একা পরিকল্পনা বলার ইঙ্গিত করায় তার সাথে আসা বাকি সিনিয়রা একটু দূরে সরে গেলেন।
তারপর আমি এক এক করে সবকিছু তাকে বললাম,তিনি আমার পরিকল্পনা শুনে বেশ অবাক হলেন মনে হল,তারপর বললেন তুৃই মেয়ে না অগ্নি অস্ত্র। সব তো জালিয়ে দিবি একাই তুই, ঠিক আছে তবে তাই হোক। তোর পরিকল্পনা অনুসারে সব হবে,তোর যখন প্রয়োজন তখনই ডাকবি ভাইকে, যা যা করা সম্ভব আমি ব্যবস্থা নিবো।
ভালো লাগলো ক্যাম্পাসে এমন একজন অভিভাবক পেয়ে,সিনিয়র ভাই সত্যি একজন মহান ব্যক্তি,যত শুনেছি আজ তার প্রমাণও পাচ্ছি আমি। ভাইয়ের হুট করে কল আসলো,,,তাকে যেতে হবে, তিনি আমার কাছে যাওয়ার অনুমতি নিলেন এবং বললেন কাজ সেরেই আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। তারপর আমার হাতে পাঁচ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললেন এগুলো রাখ,তোর এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।যতটুকু বুঝলাম সব তুই সামলেছিস,এটাও লাগবে হয়। আর হ্যা,তুই বললাম বলে রাগ করিস না, তুই আমার বোনের বয়সী, আজ সে বেচে থাকলো তোর মতই হত। বলেই আর দাড়ালেন না, চোখে কালো রোদ চশমা পড়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। আমি বাবা যাওয়ার পর ভাইদের থেকে আর কখনও এমন ভাবে স্নেহ বা আদর কোনটাই পাইনি, ভুলেই গিয়েছিলাম ভাইদের স্নেহ কেমন হয়।
কিন্তু সিনিয়র আজীম ভাইয়ের এমন আচরণে আবার আমাকে সেই স্নেহ মনে করিয়ে দিলো।চোখে চিক চিক করে উঠলো জলকণায়।চোখ দুটো মুছে আবার নিজেকে শক্ত করলাম, পা বাড়ালাম সানজিদার মায়ের কেভিনে, কেননা আমার পরিকল্পনা অনুসারে আগে তৈরি করতে হবে তাদের পরিবারকে, নয়ত সমাজে এমন নরপিশাচরা খোলাখুলি ভাবে আমাদের ঘরে ঢুকে নিজেদের কামনা মিটিয়ে যাবে আর আমরা বসে বসে এই নির্যাতনের শিকার হতে থাকবো। এমণ শু******বাচ্চাদের শাস্তি হবে নরক যন্ত্রণার মত ভয়াবহ, পুরুষ হয়ে জন্মানোকে অভিশাপে পরিণত করবো আমি পুষ্প, ইনশাআল্লাহ।
#গল্প_ধ-র্ষ-ণ
#অনুগুল্প_০১(দুই কিংবা তিন পর্বে শেষ করা হবে, আশা করছি এই অনুগল্পটিও আপনাদের মন ছুতে পারবে)
#রাজিয়ারগল্পগুচ্ছ
®রাজিয়া সুলতনা মিষ্টি
নেক্সট পার্টগুলো সবার আগে নতুন পেইজে দেওয়া হবে নীল লাখাই চাপ দিয়ে সবাই নতুন পেজ ফলো করুন 👉 Tarikul Islam

0 Comments